কবি গৌতম রায়


গৌতম রায়


কবিতার জগতে একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি কবিতা চর্চা করে আসছেন পলাশভূম পুরুলিয়ায় বসে। কাব্যগ্রন্থ:- চোখের পা, জল সিন্থেসাইজার ,স্থাপত্য স্টেশন,ধরে রাখি পারাবত নিশান প্রভৃতি কাব্যের মতো বহু চর্চিত এক ডজন গ্রন্থের রচয়িতা।নানা পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর কবিতায় বারবার উঠে এসেছে পরিবেশ ভাবনা এবং বিজ্ঞান ভাবনা। আবহমান ও প্রবহমানকে সম্মান জানিয়েও নিজস্ব ট্র‍্যাকে ধারা মুক্তির প্রয়াসী কবি। 


গুচ্ছ কবিতায়

কবি গৌতম রায়











দুর্গাও নদী না হয়ে পারে না


কত জীবন ডুবে গেলে নদী হওয়া যায়

নদীও জানে না

অবৈধ ঘাম ধুয়ে ধুয়ে আঘাতে আঘাতে

ভালোবাসার জন্য গড়াতে চায় 

গড়ানে গড়ানে জীবন,

নদী প্রতিবাদী হলে পাথরও চূর্ণ হয় ।


নদীকে কেউ কোনো দিন নদীর মতো করে

নিপাট ভালোবাসতে শিখেছ ?

যেখানে ছায়া নয়

একমাত্র নদীমুখ দেখা যায়,

রাধাকে জিজ্ঞেস করো শ‍্যামপ্রেমে মৃত্যুকে করে ছিলো জয়।


নদীকে ভালোবাসলে চোখও ইন্দীবর হয়

দুর্গাও নদী না হয়ে পারে না।


শারদ থেকে সারদ সাজাই 


কাশবনের উচ্চারণের কাছে দাঁড়াই, পোজ দিই

নিজস্বীতে ভেসে ওঠে দর্শন মিনার।


কাশতুলো করে আদর, ভালোবাসা আশীষ দেয়

ডানা বীজ নিয়ে ভরে উড়ান

পৃষ্ঠটানে একদিন মাটির কোলে আশ্রয় ।


কাশের উচ্চতা হাত বাড়ালে

দীক্ষায় উঠে আসে বীজমন্ত্র

প্রতীক্ষায় প্রতীক্ষায় দিন বোনা

বার্ষিক গতির মাথায় হাসে শিশু কাশ ,

আমাদের চাঁদ ঝুঁকে যায়

শারদ থেকে সারদ সাজাই।


বোধিসত্ত্ব 


বোধিসত্ত্বকে আঁকড়ে ধরে থাকবেন বলে

এক আধিকারিক ছাত্রদের মাঝে এসেছিলেন দ্রোনাচার্য কৃপাচার্য বশিষ্ট হয়ে

শান্তিনিকেতন থেকে পলাশ চারা এনে

পুঁতেছিলেন দোঁয়াশ মাটিতে


মেদবহুল গাছটিতে অনেক তপস্যায় কিংশুক ফুটেছিল কিন্তু মোরাম রঙা আগুন ফুটেনি

সত্য বলে মাটিতে পুঁতলেও 

সব সত্য বোধিসত্ত্বে পৌছায় না

অনুকূলে বোধিসত্ত্ব ঝরায় 

পলাশ-আগুন।














Comments

  1. আপনার কবিতা গুলো পড়ে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কয়টি সংগ্রহ করতে চাই

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক আমীরুল আরহাম

কবি অভিজিৎ বেরা

কবি সংস্কৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়