কবি গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়


গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়

জন্ম:- জলপাইগুড়ি, পঞ্চগড়। আদি নিবাস ফরিদপুর। শিক্ষা:- বি ডি এস সি এন্ড এন ডি বি পি ।পেশা:- প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: মোট ২৩টি। উল্লেখযোগ্য, আমাকে জাগিয়ে রাখে, ভাঙছে ঝরে পড়ছে, আলোকিত অপেরা,স্মৃতি ঘন কুয়াশায়, অনুপস্থিতি দিনগুলি, বার্মিংহামের মাংসের দোকান, জলের ঢেউ জানেনা, নির্বাচিত কবিতা, আমি কি জেগেই আছি, নিবিড় অথচ সংগোপনে, পোশাকে মলিন ধুলো, সামান্য কামিনী ফুল,দশ হাজার প্রজাপতি উড়ে যায়, পালিয়ে যাওয়ার কৌশল প্রভৃতি। 

সম্পাদিত সংকলন:- সত্তরের কবিতা, প্রসঙ্গ: সুধীন্দ্র, বুদ্ধদেব বসু: সঙ্গ প্রসঙ্গ, প্রসঙ্গ: শক্তি চট্টোপাধ্যায় ইত্যাদি। প্রবন্ধ গ্রন্থ:- কবির স্বপ্ন ও অন্যান্য 

সম্পাদিত পত্রিকা: চান্দ্রমাস 

পুরস্কার: কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র পুরস্কার, কবি গৌরাঙ্গ ভৌমিক পুরস্কার, কবিতা পাক্ষিক সম্মান, ত্রিবৃত্ত পুরস্কার, বাংলাদেশ থেকে অরণি সাহিত্য সম্মান' প্রভৃতি।


গুচ্ছ কবিতায়

গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়












সন্ধ্যেবেলা 


সন্ধ্যেবেলার ফাঁকা রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম। একা একা আর অনুভব করছিলাম এভাবে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় সেই অনুভব আর স্বপ্নে দেখা প্রান্তরের দেখা আমি পেয়ে যাব যেখানে কোন অচিন গান ভেসে আসছে যার গুনগুন ধ্বনি আমাকে যেন ক্রমশ অবশ করে তুলছে যা মোটেই অহেতুক নয় অথচ এসব গানের ধ্বনিও আমার বহুদিনের চেনা বলে কোনোভাবেই আমাকে সেই সব গানের গভীরে নিয়ে যেতে পারছে না কারণ ধীরে ধীরে এ সন্ধ্যাও আরো গাঢ় হয়ে উঠেছে আর গভীরতা নিয়ে একবুক অন্ধকারে আমাকে ঢাকতে চাইছে যেন আমি এক অচেনা মানুষ সন্ধ্যেবেলার ফাঁকা রাস্তা ধরে একা একা হাঁটছি যার পোশাকে মলিন ধুলো যেখানে নিবিড় অথচ সংগোপনে কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরতে তার উষ্ণ শ্বাস ক্রমশ আমার সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে আর তখনই সেই স্বপ্নে দেখা প্রান্তরের শেষ সীমা কাছে এসেছে যেখান থেকে মৃত্যুর গভীর শীতলে যেতে আজ সময় লাগবে না 


এখনো মিছিল হয় 


মধ্যবিত্ত জীবন বলতে যা বোঝায় 

তাকে নিয়েই তো বেঁচে আছি 

সামান্য যা তা থেকেই দেবো 

শুধু তোমাদের ধীর মান্যতা নেবো 

তা না হলে এখানে থাকাও 

হবে দায় 

মাথায় ভাবনা নিয়ে 

কতদিন চলে যায় 


এখনো মিছিল হয় 

প্রতিবাদে হাতদুটি ওঠে 

যাদের অতীত ও বর্তমান 

সবই এক 

থাকে না ভবিষ্যৎ বলে কোন কিছু 

সেই তাদেরই সঙ্গে গাই গান 

অকস্মাৎ মৃত্যু হলে 

ফুলেও মালায় দেবে সম্মান 


এতো যে ভুল চারদিকে 


এতো যে ভুল হচ্ছে চারদিকে 

তার কোনো সুরাহা নেই 

কে কাকে হারাবে কে কাকে কাছে পাবে 

এ অভিযোগ এরা কেউ জানায়নি 

এদের মনের গভীরে ছিল 

উনিশের প্রাণ প্রতিষ্ঠা 

আন্দোলনের ভাষায় ছিল 

                 দিনবদলের কলধ্বনি

 

এতো যে ভুল চারদিকে 

তার মধ্যেই মুখর হয়েছিল 

ভাষা বদলের শব্দ 

সোচ্চার অথচ সংগ্রামী 

সব ভুল সরিয়ে 

আজও যা বুকে গেঁথে আছে 







Comments

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক আমীরুল আরহাম

কবি অভিজিৎ বেরা

কবি সংস্কৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়