কবি মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়
নক্ষত্রের বাল্যকাল ২৪
একাকী সন্ধ্যার ঘোরে আকাশে তাকিয়ে দেখি নিঃশর্ত তারার আলোকাঁপা সুরে
ভাসমান দেবতারা ।
পাখি, তুমি নক্ষত্রের মেলায় মেলেছ ডানা ?
দূর মাঠে আলোর মায়ায় ওগো
বসুন্ধরা ------
মঞ্জরী খসার ব্যথা বুনে চলে ---
-----ব্রহ্মা দক্ষ বৃহস্পতি ।
এদের সকল বর প্রদানে ইচ্ছুক সত্যব্রত ;
এদের সকল জন্মে প্রজাপতি উপস্থিত হন ;
এদের সকল শিরস্থানে বাল্যকাল জমা করি ।
ঐতিহাসিক নক্ষত্রে জলে জলে ভাসাব জীবন
এই তো আমার হাত কত টালমাটাল আলো
এসে পড়ছে , কোনো যুক্তির স্বরের শক্তি
যার কাছে আমি আপন উন্মনা নদী !
নক্ষত্রের মুদ্রাসনে রাখি নক্ষত্রমন্ডলী
দেখি দেবতাদের দেহ হতে তারাদের জন্ম ।
নক্ষত্রের বাল্যকাল ২৫
স্বর্গ থেকে নেমেছে তিতির পাখি
তারারা যেভাবে আলো জ্বালে তার মুখে
প্রকৃতি সামান্য নয় ।
তার পায়ে জোড়া ঘুঙুরের ছাপ
ধরো তাকে ছায়ায় মিলিয়ে যাবে তারা ।্
তারার আলোয় তারা জ্বলে নেভে
ইশারা ভঙ্গিতে তারা নিজেদের বাল্যকাল
জুড়ে অর্থবহ , আলোর উল্লাসে ভেসে যায়
শীত ও সমুদ্র , জল তার ভ্রমনের সঙ্গি ।
আমি শুধু আমাকে একলা রেখে
যাযাবর হই ; রাত মুছে মুছে
লিখে চলি শিশির পতন ।
সহস্র রজনী জাগি যদি আসে
নরম তারার স্নেহে বাল্যকাল ।
তারাদের বাল্যকাল পাখিদের মত বুঝি ।
নক্ষত্রের বাল্যকাল ২৬
তারাদের নামাঙ্কিত স্থান যত আলো বদলের
ভালোবাসা; আমিও বিমুগ্ধ হই
আলো পড়তে পড়তে , অলৌকিক ইচ্ছায় ।
আলো বেঁধে রাখি --- চুম্বনে আতঙ্ক মেঘ
ফুঁড়ে বজ্রপাত আসে; জাগাও তোমার ঐশী
শত্রুকে বিক্ষত করি ; এসো প্রেম
এসো অগ্নি ও পুরাণ ।
নিজের সহস্র আঁখি তোমায় ভাসাই
তন্ন তন্ন নোনা স্রোতে পুরোনো প্রেমের
ছায়া এসে যায় এক সুগভীর যামে ।
যেভাবে তারার আলো মুখে এসে
জড়ায় আমার মুখ , কথা বন্ধ করি
আগামী কালের দিন এই বাল্যকাল
তাকে লিখতে বলেই এত প্রেম এত ভাব !
যেন তারাদের ভাসমান নামাঙ্কিত এই দেশ
সেই বাল্যকাল ফিরে পেতে চায় ---
নতুন তেজস্বী আলো ।
Comments
Post a Comment