কবি মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়


 মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়

জন্ম:-৬ নভেম্বর,১৯৭৫।শূন্য দশকের কবি ।এডুকেশনে এম কম বি এড । আই সি ডবলু এ ।সঙ্গীত ভূষন রবীন্দ্রসংগীতে।
কবিতার পাশাপাশি গল্প উপন্যাস ও কবি লেখে চলেছেন বাণিজ্যিক অবাণিজ্যিক পত্রিকায় । কবিতার বই মোট তেরোটি, গল্প সংকলন তিনটি ও উপন্যাস পাঁচটি ।
সাহিত্য একাদেমি থেকে আমন্ত্রিত হয়েছেন কোচি অলইন্ডিয়া রাইটার্স মিট এ এবং দিল্লি তে । পেয়েছেন নানাবিধ পুরস্কার মোট সাত টি । গতবছর আরাত্রিক সাহিত্য সম্মান ও যতীনদাস বাগচী কবিসম্মাননা । সাহিত্য ছাড়াও সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত । পত্রিকা সম্পাদনা করেন" স্বয়মাগতা "।তাঁর কবিতার পাঠক দেশ বিদেশে অগনিত।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:-যদি হও শুভ রাত্রি, না ফেরার দেশে, মোমজন্ম, আলতা রঙের তারা, যদি হও শুভ রাত্রি, আমরা পথিক মাত্র প্রভৃতি।
উপন্যাস:-বেজে ওঠে ছায়া, সমুদ্র সাধিকা, অন্যস্বর, সিঁড়ির পৃথিবী, গহন অন্তঃপুর। 

গুচ্ছ কবিতায়
কবি মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়



নক্ষত্রের বাল্যকাল ২৪


একাকী সন্ধ্যার ঘোরে আকাশে তাকিয়ে দেখি নিঃশর্ত তারার  আলোকাঁপা  সুরে 

ভাসমান দেবতারা ।

 

পাখি, তুমি নক্ষত্রের মেলায় মেলেছ ডানা ?  

দূর মাঠে আলোর মায়ায় ওগো

 বসুন্ধরা ------

মঞ্জরী খসার ব্যথা বুনে চলে --- 

-----ব্রহ্মা দক্ষ বৃহস্পতি ।


এদের সকল বর প্রদানে ইচ্ছুক সত্যব্রত ; 

এদের সকল জন্মে প্রজাপতি উপস্থিত হন ; 

এদের সকল শিরস্থানে বাল্যকাল জমা করি ।


ঐতিহাসিক নক্ষত্রে জলে জলে ভাসাব জীবন 

এই তো আমার হাত কত টালমাটাল আলো 

এসে পড়ছে , কোনো যুক্তির স্বরের শক্তি 

যার কাছে আমি আপন উন্মনা নদী ! 

নক্ষত্রের মুদ্রাসনে রাখি নক্ষত্রমন্ডলী

দেখি দেবতাদের দেহ হতে তারাদের জন্ম ।


নক্ষত্রের বাল্যকাল ২৫


স্বর্গ থেকে নেমেছে তিতির পাখি 


তারারা যেভাবে আলো জ্বালে তার মুখে 

প্রকৃতি সামান্য নয় ।

তার পায়ে জোড়া ঘুঙুরের ছাপ

ধরো তাকে ছায়ায়  মিলিয়ে যাবে তারা ।্

তারার আলোয় তারা জ্বলে নেভে 

ইশারা ভঙ্গিতে তারা  নিজেদের বাল্যকাল

 জুড়ে অর্থবহ , আলোর উল্লাসে ভেসে যায় 

শীত ও সমুদ্র ,  জল তার ভ্রমনের সঙ্গি ।

আমি শুধু আমাকে একলা রেখে  

যাযাবর হই ;  রাত মুছে  মুছে 

লিখে চলি শিশির পতন ।


সহস্র রজনী জাগি যদি আসে  

নরম তারার স্নেহে বাল্যকাল ।

তারাদের  বাল্যকাল পাখিদের  মত বুঝি ।


নক্ষত্রের বাল্যকাল ২৬


তারাদের নামাঙ্কিত স্থান যত আলো বদলের 


ভালোবাসা;  আমিও বিমুগ্ধ হই

আলো পড়তে পড়তে , অলৌকিক ইচ্ছায় ।

আলো বেঁধে রাখি --- চুম্বনে আতঙ্ক মেঘ

ফুঁড়ে বজ্রপাত আসে;  জাগাও তোমার ঐশী 

শত্রুকে বিক্ষত করি ; এসো  প্রেম 

এসো অগ্নি ও পুরাণ ।


নিজের সহস্র আঁখি তোমায় ভাসাই 

তন্ন তন্ন নোনা স্রোতে পুরোনো প্রেমের 

ছায়া এসে যায় এক সুগভীর যামে ।


যেভাবে তারার আলো মুখে এসে 

জড়ায় আমার মুখ , কথা বন্ধ করি 

আগামী কালের দিন এই বাল্যকাল 

তাকে লিখতে বলেই এত প্রেম এত ভাব ! 

যেন তারাদের ভাসমান নামাঙ্কিত এই দেশ 

সেই বাল্যকাল ফিরে পেতে চায় ---


নতুন তেজস্বী আলো ।





Comments

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক আমীরুল আরহাম

কবি অভিজিৎ বেরা

কবি সংস্কৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়