কবি গোলাম রসুল
গোলাম রসুল
স্কুল সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৯ সালের ১৫ মার্চ। ২০০৮ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন। তবে জীবনের প্রথম দিকে এক আধটু লেখার চেষ্টা করেছিলেন এই বিরল প্রতিভাবান কবি গোলাম রসুল।গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নেওয়া পর ভাঙড় থানার বোদরা হাই স্কুলে একাদশ শ্রেণী অবধি পড়েছিলেন। তারপর সুশীল কর কলেজ থেকে বাংলা অনার্স পাশ করে ১৯৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন ১৯৮২ সালে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএড পাশ করেন। মালদহের কালিয়াচক হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন সাড়ে দশবছর। তারপর হাওড়ার বাগনানের খাজুটটি উচ্চমাধ্যমিক হাই মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ২২ বছর।জীবন গোলাম রসুল-এর কাছে মহাসমুদ্রে বিদেশি জাহাজের মতো কখনো দেখা যায় কখনো দেখা যায় না। কবি তাঁর বুককে মাটির উপর শুইয়ে রেখে, শাশ্বত মাটির কথা শুনতে থাকেন।
কবি গোলাম রসুল-এর প্রকাশিত কবিতার বই ১) কষ্ট (২০০৯)। ২) যশোর রোড (২০০৯)। ৩) টিনের বাড়ি(২০০৯)। ৪) বৃষ্টির একপাশে উড়ছে পাখিরা (২০১০)। ৫) আমি এক অচেনা মানুষ (২০১১)। ৬) আমরা একসঙ্গে কেঁদে ফেললাম (২০১১)। ৭) বেলা দ্বিপ্রহরে (২০১২)। ৮) বিন্দুতে বিন্দুতে কথা হয় (২০১৩)। ৯ ) দুই মাস্তুলের আকাশ (২০১৪)। ১০) পূর্বাহ্নে ঢেঁকিছাটা ধূসর (২০১৫)। ১১) মেঘ এখানে এসে অন্যমনস্ক হয়ে যান (২০১৫)। ১২) লাল হয়ে আছে রাগি আকাশ (২০১৬)। ১৩)মরুভূমি চিহ্ন (২০১৬)। ১৪) নিদারুণ ছায়া (২০১৯)। ১৫) বিস্ময়ের গলিতে চাঁদ (২০১৯)। ১৬) পৃথিবীর মেঘ আমরা পেরিয়ে এসেছি(২০১৯)।
ভ্রাম্যমাণ একটি নদী
কিছু রক্ত পালকে মোছা ভোর বেলার আকাশ
কবরের ভেতরে ডানা ঝাঁপটাচ্ছে ঈগল
আর সেলাই করা আরো এক ঝাঁক পাখি
অখণ্ড একটি রূপো
মরুভূমির রাজার মুকুট গুলো পাহাড়ের মতো শাসন করছে আমাদের সোনালি ধ্বংসের ভেতর
বেলাভূমিতে ছড়িয়ে থাকা কাঁকরগুলোর সাথে মস্তক হাতে আমরা উঠে দাঁড়ালাম
জ্বলন্ত রক্ত প্রবাহের ধারে কালো সূর্য
বিজ্ঞাপন থেকে নেওয়া হয়নি আমার জীবন তাও আমি এঁকে রাখছি
ভ্রাম্যমাণ একটি নদী
ফিরে আসছি
আমাদের ট্রেনটা ওইদিকে যাচ্ছে কুয়াশা নিয়ে
বিপ্লব হয়নি বলে আমি একটি বই পড়ছি যাতে লেখা রয়েছে সাড়ে তিন দশকের জলবায়ু
আর মেঘ মিনারের ওপর আলগা দাঁড়িয়ে আছে
আমার একটি অভিজ্ঞতার মতো
হাওয়ার একটি প্লট তাতে স্পট লাইট পড়ছে
চোখের খনি অঞ্চলে মানব শ্রমিক
আমরা ফিরে আসছি
রাজার আকাশ
সে এসেছিল জাহাজে করে জন্ম নিতে
যেখানে এখন মরুভূমি
শুধু একটা শুকনো কুয়ো রয়েছে সূর্য উঠে এবং অস্ত যায়
ওদিকে কেউ যায় না
নিঃসঙ্গ পাথরবোঝাই মালগাড়ি একা চলে যায়
রাজার আকাশ গোপনে শাশ্বত ধ্বংসের মতো
চাঁদের আলো কাঁদে যাযাবর ফুটপাতে শিশুটির সাথে
যার মা চলে গেছে আধখানা দূরে
চারিদিকে শুধু খণ্ড খণ্ড চাঁদ আর পাহাড়
Comments
Post a Comment