কবি বেবী সাউ
বেবী সাউ
কবি ও প্রাবন্ধিক। বাংলা এবং ইংরেজি সাহিত্যে ডবল স্নাতকোত্তর, গবেষণারত। তাঁর সাতটি কবিতার বই, দুটি প্রবন্ধের ও একটি অনুবাদের বই প্রকাশিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার লুপ্তপ্রায় এক লোকসংগীত "কাঁদনাগীত:সংগ্রহ ও ইতিবৃত্ত" -এর জন্য পেয়েছেন ২০২০ সালের পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত "বাংলা আকাদেমি পুরস্কার" এবং 'মাসিক কৃত্তিবাস পুরস্কার ২০১৯' পুরস্কার। তাঁর কবিতার বইগুলোও বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছে। যেমন-রাঢ় বাংলা রোদ্দুর সম্মান, বইতরণী পুরস্কার, শব্দপথ যুব সম্মান এবং এখন শান্তিনিকেতন পদ্য সম্মান। বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ ছাড়াও অনুবাদের কাজেও অর্জন দক্ষতা করেছেন। কোরিয়ান কবি বেক সিওকের কবিতা অনুবাদ করেছেন এবং ২০২০ সালের বইমেলায় 'বেক সিওক-এর কবিতা' নামে অনুবাদিত বইটি প্রকাশিত হয়।
শ্রমণ কাহিনী
প্রণালী
উপাসনা পেতে বসি। চারপাশে বেজে ওঠে শাঁখের করাত। জলে ডুবে গেছে সাঁকোপথ। ফেরাতে বিপুল বাধা। আশেপাশে কেউ নেই। আজন্মের কথা ভেঙে, বুনো কুকুরেরা ফিরে গেছে ঘরে। একা একা চাঁদ হাসে। রোজকার বাজারের ফর্দ হাতে, নিমফুল, বুঝে নেয় সরিষার ক্ষেত, কার শোক হলুদ ফুলের চোখ হয়ে জ্বলে ওঠে!
তপস্বিতা
আচমন শেষে ঘরে ফিরি। হাতে লেগে আছে পোষা হুইসিল। সমস্ত স্মরণ শেষ, অভিযোগে ভরে ওঠে ডালাপালা। আধসেদ্ধ চাল। ভাতের জড়ত্ব ভেঙে, তুমি হেঁটে যাও। দুলে দুলে থেমে যায় বিরহ বাগান। কাছে এসে বসে একা। তথাগত হে! জাগ্রত চোখে সেদিনই কেঁদেছিল বিস্তৃত, প্রথম লুম্বিনী উদ্যান।
সনেট
তুমি নেশাগ্রস্ত হয়ে আছ আজ, শোনও মহাবীর
আজও কেউ তেমন নেই, যাকে আমি বিয়ে করতে পারি।
এ সনেটগুচ্ছ পড়ে ভেব না যোগ্যতা আছে তারই
কবিতায়, যারা শুধু অক্ষরবৃত্তের ছন্দে নীড়
বেঁধেছে শিশুর ছন্দে, জেনেছে গভীর রাস্তা দিয়ে
কে যায় নিজের ছন্দে, গৌতম বসুর শুভকালে
কে বলেছে অন্নপূর্ণা, কে লিখেছে অমন তাকালে
আবার প্রেমের মতো কবিতার শব্দে শব্দে বিয়ে?
এ সব কিছুই আমি তোমায় তো দিয়েও যাব না
এ ঘন মেঘের ফাঁকে দেখেছি ঝড়ের মতো চোখ
আমি কি কিছুই তার এ জীবনে হদিশ পাব না?
মনে মনে বলি, আমি হে প্রেম তোমার মতো শোক
পেতে চাই, এ জীবন কিছু নয়, বলে বেবী সাউ
যেখানে অনন্ত থাকে, তার পাশে আগুন দাউদাউ।
Comments
Post a Comment