কবি দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়
দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম:-১৯৭৩ সালে । মূলত কবি, গল্পকার এবং প্রাবন্ধিক।ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং সংবাদ পত্রেও নিয়মিত ভাবে কবির লেখা ছাপা হচ্ছে। বাণিজ্য শাখায় স্নাতক ও হিউম্যান রিসোর্সে এম বি এ করে বর্তমানে এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:- ‘স্বপ্নে ডুব সাঁতার’(২০১৮, ইচ্ছেকথা), ‘একাকী দুপুরের মিঠে রোদ্দুর (২০১৯,পরিবার পাবলিকেশন্স, বাংলাদেশ) মৃত্যুর জন্য বেঁচে নেই (২০২০,ইচ্ছেকথা প্রকাশন), ফাগুনের দহনে, (২০২০,পরিবার পাবলিকেশন্স), আমি রোজই বৃষ্টির সাথে কথা বলি,(প্রকাশিত হতে চলেছে পৌষালী প্রকাশনী, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২২শে)
গুচ্ছ কবিতায় কবি দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রতিদিন ঘুমোতে যাবার আগে ভাবি
প্রতিদিন ঘুমোতে যাবার আগে ভাবি
সকাল হলেই ছুটে যাব চেনা মানুষের কাছে
অনেক দিন হয়ে গেল দেখিনি তাদের
বুকের মধ্যে যত আছে ভালোবাসার নারী
একে একে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াব
অনেক মেনেছি লোকলজ্জা
অনেক সয়েছি মৃত্যুভয়
এইবার যাকে যা বলার তাই বলে দেব
গোলাপের পাপড়ির মতো প্রিয় নারীর হাসি মেখে নেব
প্রতিদিন ঘুমোতে যাবার আগে ভাবি
সকাল হলেই দুমুঠো খেয়ে চড়ে বসবো লোকাল ট্রেনে
দল বেঁধে এতদিন যেমন যেতাম জীবিকার খোঁজে
তেমনি আবারো গাদা গাদি হয়ে
পরিশ্রান্ত মানুষের ঘাম গায়ে মেখে
সারা দিনের শেষে ফিরে আসবো শান্তি নীড়ে
প্রতিদিন ঘুমোতে যাবার আগে ভাবি
সকাল হলেই সূর্য গায়ে মেখে শিশুরা যাবে স্কুলে
এতোদিন যেমন তারা গেছে দাদু-ঠাকুমার হাত ধরে
কিন্তু এসব এখন আর নেই জীবনে
চেনা মানুষ জীবন জীবিকা এবং আগামীর শিশু
সময়ের গতি থমকে বসে গেছে মাটিতে
মানুষ যেন কুরুক্ষেত্রে হতভাগ্য কুন্তীপুত্র কর্ণ
বীর যোদ্ধা দুহাতে চালাতে জানে হাজারো অস্ত্র
শুধু জানেনা বসে যাওয়া রথের চাকা টেনে তুলতে
মাতৃভূমি
অন্ধকারে মুখ ঢেকেছে মাতৃভূমি
মানুষ আর গাছেরা শুয়ে আছে পাশাপাশি
নীড় হারা পাখিরাও খোঁজে আশ্রয়
একা একটা তারা মিটিমিটি জ্বলছে
মানুষের মাথায় ছাদ নেই
পৃথিবী কাঁদছে গাছেদের শোকে
মাটির হৃদয় চিরে ওরাই বাঁচিয়েছে ‘মাতৃভূমি’
দুচোখের পাতায় এত অন্ধকার কেন
জোনাকিরা সব ফিরে এসেছে
আলোর ফোঁটায় সূর্যও হাসছে আকাশে
কেউ ভেবো না সভ্যতার শেষ আসন্ন
কেউ ভেবো না নিজেকে একা
মানুষ পাখি গাছ প্রজাপতি কীটপতঙ্গ
সবাই আছে সবার জন্য
অন্ধকার ছেড়ে আলোয় ফিরুক মাতৃভূমি
শীত
আমি এখন শীত মাখি
খালি গায়ে উত্তুরে হাওয়ায় দাঁড়িয়ে
উষ্ণতার পারদ নামতে নামতে হিমাংক ছুঁলেও
একবুক আশায় দাঁড়িয়েই থাকি
কোন একদিন সমুদ্র স্রোত নেমে আসবে
মহাকাশের প্রতিটি গ্রহ উপগ্রহ ছেড়ে
মরুভূমির মাটিতে ঝরে পড়বে সবুজ ঢেউ
প্রাণের স্পন্দনে হাসবে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড
হিমশীতল হৃদয়ের ব্যারিকেড ভেঙে
কেউ তো আসবে চাদর হাতে
উত্তুরে হাওয়ার চোখে চোখ রেখে
তখনও দাঁড়িয়ে থাকবো
তখনও শীত মাখবো
যতদিন পৃথিবীতে গৃহহীন থাকবে একটাও শিশু
Comments
Post a Comment