কবি শান্তনু ভট্টাচার্য
শান্তনু ভট্টাচার্য
জন্ম:- ২ রা সেপ্টেম্বর ১৯৭০, কলকাতায় এক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা।স্কুল জীবন বরানগর রামকৃষ্ণ মিশন। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক।কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু।মাঝের দীর্ঘদিন বিরতির পর দুহাজার নয় থেকে আবার পথচলা।ভারত-বাংলাদেশ জুড়ে বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয়ে চলেছে।বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সামনের সারির কর্মচারী। দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে-- নৈদাঘে মেঘদূত (২০১৭,অমিয়া প্রকাশনী) যন্ত্রণার অক্ষরবৃত্ত নদী (২০২০,কালি কলম মনন)। বর্তমানে জনপ্রিয় ফেসবুক লাইভ প্রোগ্রাম "চেনা কবির ভালোলাগা কবিতা"- র সঞ্চালক।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি শান্তনু ভট্টাচার্য
দরজা
নিজেই নিজেকে খিল দিয়ে এঁটে রেখেছে
পুরনো ঘুন ধরা কব্জায় ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্
বহুদিনকার একটা দরজা।
সে দিনরাত শুধু ভাবে যে সেই একমাত্র
সমস্ত কিছু যাওয়া-আসার পথ আর সেসব কথা
জাহির করে বলে ডাকপিয়ন...দুপুরের ফেরিওয়ালাদের
সারাক্ষণ দজ্জ্বাল শাশুড়ির মতো
তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে পাশের ঘরের জানলাকে
আসলে ও মদমত্ত অহংকারে ভুলে গেছে
ফাগুনের বাতাস আর চাঁদের জোছনা
দরজার থেকে জানলাকেই বেশি ভালোবাসে।
শুধু পাতাই পুড়ে যায়
দাঁড়াও!!
এখানে কথা বলোনা।
অসংখ্য আগাছা, ঝরে যাওয়া পাতার মাঝে
শুইয়ে রেখেছি দুঃখ ও লাঞ্ছনাকে।
শোক না জানাও
শব্দ কোরো না।
জানি ঝরাপাতার কোন আত্মীয় হয় না
স্ত্রী নয়,ছেলে নয়,বন্ধু নয়
তেমনই ব্যথা ও লাঞ্ছনারও কোন ভাগীদার হয়না।
এখন অপেক্ষা শুধু ----
চৈত্রের খরা দুপুরে একটু ঘর্ষণজনিত তাপ
অথবা সরকারি হুকুমের কপিসিং ফেলিং
আগুন আইনি বেআইনি কিছুই বোঝেনা
সে শুধু আকাশে তাকিয়ে খোঁজে বৃষ্টির শর্তসমূহ।
অভয়ারণ্যে প্রকৃতি বরাভয় হলে
পড়ে থাকা ছাই খুঁজে না-পোড়া নাভির মতো
তুলে নিয়ে যাই সযত্নে--দুঃখ লাঞ্ছনাকে।
শুধুই পাতারাই পুড়ে যায়...
বারো রঙে চৌষট্টি খোপ
মৃত্যু আড়াআড়ি পাশ কাটিয়ে গেলে
চোখের সামনে শুরু হয় বাঘবন্দী খেলা।
একটার পর একটা দরজা পেরিয়ে
এসে পড়ি হাঁ -মুখ উঠোনে
ঝরে মরে শুয়ে থাকে কত তারা
অন্ধকার থেকে উঠে চুরি যাওয়া আলো
জ্বলে ওঠে কুলুঙ্গিতে-
খিলখিলিয়ে ওঠে মরা ঝাড়বাতি
খেজুর পাতা ছেঁড়া শন শন বাতাসে।
ঘাসের মধ্যে পা ডুবে যেতে যেতে দেখি
সামনে দাঁড়িয়ে চৌষট্টি ঘর
বারোরকম রঙে রাঙানো দিন
সংকেতে সংকেত মিললে তবেই
তুমি জলছড়া দেবে...
ছুঁয়ে দিলে সম্পূর্ণ হবে মৃত্যু মুঠোয় করে
শুদ্ধ এ বেঁচে থাকা।
Comments
Post a Comment