কবি পাপড়ি ভট্টাচার্য
উপন্যাস--কদম কিশোরী, দোলনা, আবর্ত,রবে নীরবে ও জিয়ারত।গল্প--গল্প হরিণ ও জীবনের গভীরে।
প্রাপ্ত পুরস্কার ৭টি।(১) শঙ্কর বন্দোপাধ্যায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ২০১০(২) টেগোর ভিলেজ সম্মাননা ২০১৭ (৩) আন্ডার গ্রাউন্ড সাহিত্য সম্মাননা ২০১৭ (৪)নীরাপদ পাল স্মৃতি সম্মাননা ২০০৮(৫) গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্গ ২০০১(৬) অন্নপূর্ণা স্মৃতি পুরস্কার ১৯৯৬(৭) গোন্দলপাড়া শহর গ্রন্হাগার ১৯৯৫।
অন্ধকার থেকে
যে পথ ধরে এগোচ্ছি
হেডলাইটে অন্ধকার ভাগ হয়ে যাচ্ছে
পাশে বসে থাকা মানুষটির চাপদাড়ির
ভেতরেও একরাশ অন্ধকার।
পৌঁছে যাব যেখানে কাকভোরে
সেখানে পাখিগুলো কথা জমিয়েছে
ঠোঁটের ভেতর
গ্রীষ্মকালীন ঊষা, একটা দিনের ভিত
কত কিছু ফিরিয়ে দিতে পারে।
শেষ হয়ে যাওয়ার আগে,শুরুর দিনে
এইখানে উঠে বসেছিল যাবতীয় ভাষা,
হেডলাইট ম্লান হয়ে নিভে গেল
ঝকঝকে নির্জন রাস্তায় আকাশ আলো
কোথাও নেই পালক ছেঁড়ার আওয়াজ।
নেমপ্লেটে ঝুলছে"সূর্যাস্তকালীন আবাস"
আজন্ম লালিত হাতগুলো অন্য কোথাও আছে।
হাসি
গদ্যের আধারে যে হাসি হেসেছিলে তুমি
আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি পদ্যের আকারে
সেদিন শিরা -উপশিরা জুড়ে তুমুল তুফান
এক ফুয়ে নিভে গেল।
রাতের আকাশ জুড়ে যে হেসে ওঠে
তাকে সবাই কলঙ্কিনী বলে
তবু ও হেসে দিনের আলোয় সে থাকে
আলোকে কি চেনা যায় আলোকিত দিনে?
ঘোর বর্ষায়
যেদিন মেঘে মেঘে গর্জনে অশ্বমেধ যজ্ঞ শুরু হলো
সেদিন আমি পশ্চিমমুখো হয়ে নামাজ পড়ছিলাম।
তবু মৃত মুখ দেখতে হলো
চোখ ঢেকে গেল সাদা মেঘে।
পুঞ্জিভূত কালো মেঘ সরে যেতেই
দেখি পবিত্র কোরআন হাতে বাবা
দাঁড়িয়ে আছেন মেঘের উপরে।
ঈশ্বর,আল্লা,যজ্ঞ, নামাজ, কোরআন
সব যে যার জায়গায় যুক্ত থাকে
জেগে থাকে একটা চাঁদ পশ্চিমে
জেগে ওঠে একটা সূর্য পূর্বে
বাবার হাতে একটা অন্ধকার রাত আমার হাতে একটা আলোকিত দিন
মৃত জনেরা ঢোকে জ্বলন্ত আগুনে
পুড়ে যাই আমি ঘোর বর্ষায়।
Comments
Post a Comment