কবি দেবাশিস সাহা
জন্ম:- ১জানুয়ারি,১৯৭০। মুর্শিদাবাদজেলার ধুলাউড়ি গ্রামে। শিক্ষাগত যোগ্যতা বাণিজ্যে স্নাতক। পেশায় ব্যাংক আধিকারিক।নেশা কবিতা যাপন আর গাছ পোষা। তার কবিতা এপার-ওপার বাংলার শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত। স্বল্প কথা ও অভিনব শব্দ প্রয়োগ তার কবিতার বৈশিষ্ট্য।
কবিতায় তার নিজস্ব স্বর নিজস্ব ধারা নির্মানে সক্ষম হয়েছে। পেয়েছে পাঠকের ভালোবাসা। ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে দশটি কাব্যগ্রন্থ:- প্রজাপতি রঙের গ্রাম , সার্কাস জীবন, দেখা শেখার স্কুল, আলোদের ঈশ্বর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। রামমোহন পুরষ্কার, উন্মুখ পুরষ্কার, দৌড় পুরষ্কার পেয়েছেন। ২০০৪ সাল থেকে সম্পাদনা করেন আলোচনার কাগজ 'ছাপাখানারগলি'।সম্পাদনার জন্যে পেয়েছেন এবং অন্যকথা, স্রোত আর বাসভূমি পুরষ্কার।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি দেবাশিস সাহা
দু-গাছি কান্না ও জল-আকাশ
ওয়াশরুম পেরিয়ে
নদীর দিকে নেমে যাচ্ছে
সরু রোগা লিকলিকে
হাড় জিরজিরে দু-গাছি কান্না
নদীর পা নেই
মানুষের কান্নাগুলো দিয়ে গয়না করে
ভর্তি করেছে শরীর
শরীর ভর্তি অলংকার আর অহংকার নিয়ে
ছুটে যাচ্ছে মহাসাগরের দিকে
মহামানবের মহামিলন ক্ষেত্র এই জল-আকাশ
মেয়ে ভারতবর্ষ
মেয়ে ভারতবর্ষ জানে
আগুনের কোনো দোষ নেই
ওদের কয়লাজন্ম
পিঠে সারি সারি শলাকায়
বয়ে নিয়ে বেড়ায় আগুন
মেয়েভারতের গুহাপথ
ইন্ডিয়ান রেলওয়ে
মালগাড়ি, লোকাল, এক্সপ্রেস
সবার অবাধ যাতায়াত
যোনীদেশ ছিঁড়ে গেলেও
রক্ত ঝরেনা
মুষলধারে ঝরতে থাকে অন্ধকার
মেয়ে ভারতবর্ষের কয়লাজন্ম
আগুনের কোনো দোষ থাকতে পারেনা।
হত্যাতন্ত্র
১.
হাওয়া ধারণ করেছে ধর্ম
ধর্ম জমে জমে মেঘ
মেঘ ফেটে গেলে
রক্তে ভিজে যায় মানুষ
২.
পাথর জানেনা কার হাতে আছে
কার দিকে ছুটে যাচ্ছে আঘাত নিয়ে
হৃদয় পাথর হলেই
সে চলে আসে হাতে
দিগবিদিক ভুলে ছুটে যায়
ভাইজান বা মা-বোনের দিকে
৩.
দেশের ভিতর দিয়ে
ছুটে যাচ্ছে অগ্রন্থিত বিড়াল
অপমান পাড়া বলে যাকে ডাকো
সেই তো তোমার আমার বোনেদের আশ্রয়
লালটুকু তুলে রাখো
আমাদের স্নেহজ ভেসে ভেসে
চলে গে ছে লাশের সংগে
আত্মীয়তা থাক শিমূলে পলাশে
মনকে মরতে দিওনা
একান্ত বাউল রাত ওর দখলে
৪.
কোনো কোনো কান্না
একা একা ছুটে যায়
গাছহীন এক অরণ্যের কাছে
সেখানে মা'কে খোঁজে
সবার কি মা হয়
সবার কি মা থাকতে আছে
কান্নাগুলো পরিত্যক্ত কামরার ভিতর
কাকে খোঁজে
বিন্দু বিন্দু রক্তে ভেজা
একটা ছেঁড়া ভারতবর্ষ
শুষে নিচ্ছে কান্নাগুলোর মা'কে।
Comments
Post a Comment