কবি আবদুস শুকুর খান


আবদুস শুকুর খান

জন্ম:- পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মোহনপুর গ্রামে। জন্য ৫ ই মার্চ ১৯৫৪ খিষ্টাব্দে।মহিষাদল রাজ কলেজের ছাত্র। অর্থনৈতিক কারণে পড়া ছেড়ে শিকড়ের সন্ধানে শহরে এসে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে হাওড়ার দীনবন্ধু কলেজ থেকে "বি এস সি,ও বি এ(স্পেশাল) পাশ করেন। প্রাইভেট টিউশনি দিয়ে জীবন শুরু।সাময়িক সময়ে শিক্ষকতার চাকরি।পরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত জীবন।স্কুল জীবন থেকে লেখালেখির সৃচনা। অজস্র লিটল ম্যাগাজিন ও নামীদামি পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখক। বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় ও লিখে চলেছেন সমানভাবে।ছোট বড় একাধিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য কাব্যগ্রন্থ:-জীবনের অসমাপ্ত কবিতা,নব জন্মে ফিরি মৃত্যুর বিষাদে, নৈঃশব্দ্যের স্বর , সম্পর্কহীনতায় দাঁড়িয়ে,কবির ঘরে কেউ আসে না, সুন্দর আছে চির সুন্দরে,প্রেম পদাবলী, সময়ের যতি চিহ্ন ভেঙে,ভাবো হে হন্তারক ভাবো, হাত বাড়িয়ে দাও, বেজে ওঠে মায়াবী গিটার, যা বলা হলো না,ইত্যাদি

উপন্যাস:- শিকড়ের ঘ্রাণ,অচেনা সম্পর্ক, আত্মজা,(বাংলাদেশ)।ভালোবাসার ঘরবাড়ি, মানুষ রতন,অবগুন্ঠিতা। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত:-জলপরি,কোকিলের ডাক, রাত বারোটার ঘণ্টা,দূরের স্বজন,কাচের পৃথিবী ইত্যাদি

গল্পগ্রন্থ:-পল্লী প্রেমের কাহিনী,দেবশিশু।সংকলন:-দুই বাংলার প্রেমের কবিতা।


গুচ্ছ কবিতায়
কবি আবদুস শুকুর খান

দ্বন্দ


তুমি যেভাবে পারো তুচ্ছ করে ফিরিয়ে  দিয়েছ,

ধ্বংস করেছ শুভেচ্ছা চেতনা,

রয়েছে যা তোমার  অধিকারে নেই।

তবুও অনাস্থা  আনিনি  তোমার উপর

মনে হয়েছে; ভুল ভাঙলে তুমি 

ফিরে আসবে  সঠিক  অবস্থানে।


এই আশা নিয়ে  দিনের পর দিন এক 

ধৈর্যের  সঙ্গে  প্রতীক্ষা নিয়ে  বেঁচে আছি

প্রতিদিনের অমোঘ দ্বন্দ্বে,প্রেমে অপ্রেমে 

তোমাকে পবিত্র  পাথরের  মতো

ভালোবেসে  গেছি।

সমস্ত আড়াল সরিয়ে  কখনো ফিরে  আসো যদি

ভাবি তবে

আত্মার  অমৃত আশা পূর্ণ হবে...


এখনও যে আমার শেষ কথা বলা বাকি

শেষ  কথা বলা...


পাখি


সারাদিন  ডানা মেলতে মেলতে

সন্ধ্যার ছন্দে ঘরে ফিরে  আসে পাখি ।

এই আসা যাওয়ার  ঐকান্তিক ছন্দে 

জীবনের  নান্দনিক তথ্যে সমৃদ্ধ  হয় উড়ন্ত বিষাদ। 

এর কারণ  পাখি  জানে অন্য কেউ জানে  না


যতই দূরত্বে হোক তার ক্ষুদ্র  বাসা

পাখি ঠিক বোঝে 

তার আশ্রয়স্থল  কত সৃষ্টির বৈচিত্র্যেভরা,

খড় কুটো জড়ো করে 

তিল তিল করে বুনে চলে তার বাসা

কতই না শিল্প সম্মত ।

আকাশের মহা মানবিক টানে 

যত দূরেই  যাক না পাখি  

সময়ের টানে ফিরে আসে ঠিক

আপন আলয়ে।


মন ও মানবিকতা  বুঝেছি বলেই

আজও  তাদের  ভাষা বুঝে জেগে উঠি

প্রাণের ভাষায় ডেকে  যাই

আন্তরিক  কামনায় ;পাখিহীন,পাখিটাকে...


আমরা ভাসানে যাই

  

জলের প্রকৃতি  না জেনে নৌকা  ভাসালে

চোরা স্রোতে ভেসে  যাবে সকল বিশ্বাস! 

যে মাঝি অসীম  সংযোগে ও নিষ্ঠায়

ধরে থাকে  হাল

সেই পারে চলে যেতে অসীমের  পারে।


স্রোতের  ঘূর্ণি ও ঝঞ্ঝা দেখে কেউ  হাল ছেড়ে  দিলে 

সেই কখনওই  পাবে না বাঁচার  বিশ্বাস! 

লক্ষ্যভ্রষ্ট  হবে  তার  স্বপ্ন পথ,লোকজন পারাপার

অচিরেই  হবে তাঁর সলিল সমাধি !


এ কোন  প্রজ্ঞার কথা নয়

এ স্বাভাবিক  বোধের  কথা

যেখানে  রাখো পা -

সেই পথের  প্রকৃতি জেনে তুলে  নাও হাল

মা-ভৈ  বলে পার হয়ে যাও জীবনের 

সকাল-বিকাল।


আমরা ভাসানে যাই

অসীম  থেকে  সেই আশ্চর্য সুন্দর মাঝি

ধরে থাকে  হাল ।





Comments

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক আমীরুল আরহাম

কবি অভিজিৎ বেরা

কবি সংস্কৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়